সবাই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে থানায় থানায় অভিযোগ করুন| যখন রাজ্যপাল থাকবে না তখন প্রেসিডেন্সি জেলে ঢোকানো যেতে পারে বিস্ফোরক কল্যাণ ব্যানার্জি

0
19

বাংলার রাজ্যপাল বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। যেমন দলের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্টরা করে থাকেন। তৃণমূলের অধিকাংশ নেতারই অভিযোগ এমনই। বিশেষত রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের আর তৃণমূলের সংঘাতে বারবার রাজ্যপালকে নিশানা করতে এগিয়ে এসেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় । সম্প্রতি নারদ কাণ্ডে সিবিআই চার্জশিট পেশ করার জন্য রাজ্যপালের থেকে অনুমোদন চেয়েছিল। সময় নষ্ট না করে সেই অনুমতি দিয়েও দেন ধনখড়। সেই সময় রাজ্যপালকে ‘পাগলা কুকুর’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন কল্যাণ। আর এবার তিনি সকলের বিশেষত তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে যে আহ্বান জানালেন, তা রীতিমতো চমকপ্রদ।রবিবার কল্যাণ বলেন, ‘উনি (রাজ্যপাল) জেনেবুঝে, ইচ্ছাকৃত বাংলার ক্ষতি করে চলেছেন। আর কোনও রাজ্যপাল এমন করেন না।’ এরপরই তৃণমূল সাংসদের সংযোজন, ‘সংবিধান অনুযায়ী, এখন ওনার বিরুদ্ধে যে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না, তা আমি জানি। কিন্তু সকলকে আমি অনুরোধ করব, এখনও সকলে সব জায়গায় ধনখড়ের বিরুদ্ধে FIR করুন। এখন কিছু করা যাবে না। কিন্তু যেদিন ওনার মেয়াদ ফুরোবে। সেইদিনই ওই এফআইআর-গুলির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা দেখতে হবে। এই প্রেসিডেন্সি জেলেই ওনাকে ঠাঁই করে দেওয়া যেতে পারে।’বস্তুত, এ রাজ্যে রাজ্যপাল হওয়ার পর থেকেই ধনখড়ের সঙ্গে তীব্র সংঘাত বেঁধেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। সম্প্রতি তা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সারা রাজ্য যখন কোভিড মোকাবিলায় ব্যস্ত, রাজ্যপাল তখন ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়ে রাজ্যকে বারবার কাঠগড়ায় তুলেছেন। কখনও তিনি ছুটে গিয়েছেন কোচবিহার, কখনও একেবারে খাস নন্দীগ্রামে। বলা বাহুল্য, প্রতিটি ক্ষেত্রেই আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। আর সেই সংঘাতের আবহেই এসে পড়ে নারদ কাণ্ড। শুধু চার্জশিটে পেশে সিবিআই-কে অনুমতি দেওয়াই নয়, নারদ-তদন্তে চার নেতা-মন্ত্রী এবং এক আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই, তাতে বেনজির ভাবে সাক্ষী তালিকায় নাম রাখা হয়েছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের। আদালত সূত্রে খবর, মোট ৬১ জন সাক্ষীর তালিকায় ৫২ তম সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে বাংলার রাজ্যপালকে। ই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলছেন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীরা। তাঁদের অনেকের যুক্তি, গ্রেপ্তারিতে অনুমোদন দেওয়ায় তাঁকে হয়তো সাক্ষীর তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে, এর আগে রাজ্যে কোনও মামলায় রাজ্যপালকে সাক্ষী হিসেবে দেখা যায়নি। এই আবহে কল্যাণের তীব্র আক্রমণ সংঘাত যে আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে