শীতলকুচিকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে বিজেপি নেতাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যান করা উচিত রাণাঘাটের জনসভায় মন্তব্য মমতার

0
29

প্রথমে দিলীপ ঘোষ, তারপর সায়ন্তন বসু এবং শেষে রাহুল সিনহা রাজ্য বিজেপির এই তিন শীর্ষ নেতার শীতলকুচিকাণ্ড নিয়ে রীতিমতো বেপরোয়া মন্তব্যের জেরে সোমবার রাণাঘাটের এক জনসভা থেকে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিকভাবে এই নেতাদের ব্যান করা উচিত৷” মমতা এদিন বলেন, রানাঘাটের মানুষকে বলব, “আপনারা নিশ্চয়ই চান, আমরা শান্তিতে থাকি । গুলি করে মানুষ মারতে যেন না হয় । আমি ২১ জুলাই দেখেছি । আমার ১৩ জন শহিদ হয়েছিল । শীতলকুচিতে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়ে বলছে ৪ জনের জায়গায় ৮ জনকে মারা উচিত । এই বিজেপির নেতা, এরা দেশের নেতা হবে । এদের আপনারা ভোট দেবেন ? এরা পারে না এমন কাজ নেই । চতুর্থ দফার ভোটে চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী লকেট চ্যাটার্জির গাড়ি ভাংচুরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন ওদের একজন মহিলা সাংসদ নিজের গাড়ি নিজে ভাঙছিলেন ।” এদিন মমতা আরও বলেন, “শীতলকুচিতে যে ভাবে ভোটের লাইনে গুলি চালিয়েছে তাতে বিজেপিকে কেউ ক্ষমা করবেন না । ওরা হিন্দু, মুসলিম করে । মানুষ মারা গেলে হিন্দু, মুসলিম হয় ? মানুষের রক্তে হিন্দু, মুসলমান হয় ? প্রথমে নিজেদের একটা লোককে খুন করেছে । এরা নিজের লোককে নিজে মেরে দিতে পারে । তার পর হিন্দু, মুসলিম করবে ৷ বিজেপি শুধু ধর্মের নামে রাজনীতি করে বলেও এদিন তুমুল আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, ‘ওরা ধর্ম মানে না । দাঙ্গা মানে । হিন্দু, মুসলিম বিভেদ মানে । আমরা এমন ছদ্মবেশী ধর্ম করি না । আচ্ছা বলুন তো, যারা ধর্ম মানে তারা গুলি চালানোর কথা বলতে পারে ?” পাশাপাশি মমতা গেরুয়া বসনধারী সাধু, সন্ন্যাসীদের সম্মান করেন জানিয়ে বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “এরা কী করবে জানেন, প্রথমে গেরুয়া পরবে, তারপর কপালে তিলক কাটবে, তারপর পানবাহার চিবোতে চিবোতে হরি হরি করবে । ওরা গেরুয়া পরার যোগ্যই নয় ।” এদিন আবারও শীতলকুচিকাণ্ড নিয়ে অমিত শাহকে আক্রমণ করে বলেন, “আমি এখনও বিশ্বাস করি, গোটাটাই এসপি-র সঙ্গে বসে করা অমিত শাহের প্ল্যান । আর পুরো বিষয়টাই জানতেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই হঠাৎই এক মহিলার প্রসঙ্গ এনে তিনি অভিযোগ করেন, প্ল্যান করে ওখানে একজন মহিলাকে পাঠিয়েছিল বিজেপি । তারপরই গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় চার জনকে । আর পুরো বিষয়টাই অমিত শাহের প্ল্যান ।” এদিন একটি তালিকা তুলে ধরেও তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, “কারা গুলি চালিয়েছে, সব নাম পেয়ে গিয়েছি । সব আছে আমার কাছে । ২ মে তারিখের পর সব ব্যাবস্থা নেব । আমাকে থামানো যাবে না ।” তিনি গোটা বিষয়টির তদন্ত করবেন বলেও জানান । পাশাপাশি তিনি বলেন, “সকালে যে রাজবংশী ভাইটি মারা গিয়েছে আমি তাকেও সাহায্য করব ।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে রাজবংশী নিয়ে কথা বলছে, জ্ঞান দিচ্ছে । নিজেদের দলের কর্মীদেরই নিজেরা মেরে ফেলে রাজনীতি করে, লজ্জা করে না । রাজবংশী মানুষজন আমার পরিবার । তাঁরা জানে আমি তাদের জন্য কী করেছি ” তার দাবী এর আগে রাজবংশীর সবচেয়ে বড় নেতা গিরীন্দ্রনাথ বর্মণের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে বিজেপি । এদিন আবারও মমতা বাংলার মানুষের কাছে আবেদনের সুরে বলেন, “বুলেটের বদলে বুলেট চাই না, ব্যালট চাই । একটা ভোট, একটা বুলেটের জবাব ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে