রাজ্যে হু হু করে বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের ১১ দফা নির্দেশিকা ।

0
32

ভোট বাংলায় করোনাকে ঠেকাতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক । করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে  রাজ্যে দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা । শনিবারের সরকারি পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টার যে ভয়াবহ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর তাতে আর চুপ করে বসে থাকলে চলবে না । যখন দেশের অন্যান্য রাজ্য করোনাকে নিয়ে তটস্থ, বাংলায় তা নিয়ে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করা হয়নি । সরকারি তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় নতুন করে ৭৭১৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন । করোনায় আপাতত মৃতের সংখ্যা ৩৪ জন । আর শুধু শহর কলকাতাতেই করোনা সংক্রমণ ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে । এখনও পর্যন্ত এরাজ্যে ৬,৫১,৫০৮ জন করোনা আক্রান্ত হলেন । আর করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত এরাজ্যে করোনায় মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ । ১৭ এপ্রিল-এর হিসাব অনুযায়ী এরাজ্যে করোনা অ্যাক্টিভ মোট ৪৫,৩০০ জন । এই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার । সাংবাদিক বৈঠক করে করোনা মোকাবিলায় ১১ দফা নির্দেশিকার কথাও জানানো হয়েছে ।

এবার দেখে নেওয়া যাক কি রয়েছে সেই নির্দেশিকায় :-

১)  জনবহুল এলাকায় ও পরিবহণে যাত্রা করার সময় মাস্ক, স্যানিটাইজার, দুরত্ববিধি মেনে চলতে হবে। আর তা মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবে স্থানীয় প্রশাসন।

২)  বিভিন্ন অফিসে, প্রতিষ্ঠানে, কমপ্লেক্সে, যেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের আনাগোনা রয়েছে, সেখানে সপ্তাহে একবার স্যানিটাইজেশন করতে হবে। 

৩)  সমস্ত বাজারগুলিকে স্যানিটাইজেশন করতে হবে। 

৪)  বাজার, গণপরিবহণ ও ব্যক্তিগত গাড়িতেও যাত্রা করার সময় পরতে হবে মাস্ক। 

৫)  দোকান, বাজার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠাণে, কাজের জায়গায় যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ কাজ না করে। একসঙ্গে বেশি মানুষের ভিড় যাতে না হয় সেদিকে  খেয়াল রাখতে হবে। 

৬)  রাজ্য সরকারি অফিসগুলিতে সর্বাধিক ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করতে হবে। কর্মীদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অফিসে আনতে হবে৷ 

৭)  বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে ওয়ার্ক ফর্ম হোমের ব্যবস্থা করতে হবে। 

৮)  কর্মস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কর্মীরা মাস্ক পরেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন৷ 

৯)  শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্স, হোটেল, রেস্তোরাঁতে আগের মতোই প্রবেশ এবং বাইরে যাওয়ার পথে স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মাল স্ক্যানিং-এর ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক৷

১০) স্টেডিয়াম এবং সুইমিং পুলগুলিতে আগের গাইডলাইনের মতো সমস্ত বিধিনিষেধ মানতে হবে৷

১১) এই সমস্ত গাইডলাইন না মানলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে৷

প্রসঙ্গত, এখনই হাল ধরতে না পারলে যে বিপদ আছড় পড়বে বাংলার উপর তা নিশ্চিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে