বিজেপির কথায় গুলি চালাবেন না, ওরা আপনাদের ফাঁসিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাবে বলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে ফের বহিরাগত বলে মোদী-শাহকেই দুষলেন মমতা ।

0
31

পঞ্চম দফা নির্বাচনে নদীয়ার আট কি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট পর্ব শেষ হয়েছে গতকাল। আগামী ২২ এপ্রিল ফের ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট হবে এই জেলাতে। বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রবিবার সকাল থেকে পরপর দুটি নির্বাচনী জনসভায় যোগদান করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম সভাটি ছিল এদিন সকালে তেহট্টের শ্যামনগরে। পলাশীপাড়া কেন্দ্রের প্রার্থী ডঃ মানিক ভট্টাচার্য ও তেহট্টের তৃণমূল প্রার্থী তাপস সাহার সমর্থনে এইদিন জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সভার শেষে তিনি চলে আসেন কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস এর সমর্থনে ধুবুলিয়া সুকান্ত স্পোর্টিং ক্লাব ময়দানে আসন্ন নির্বাচনে উজ্জ্বল বিশ্বাসকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করার বিষয়ে জনসভা মঞ্চ থেকে প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যুর পর থেকেই রুদ্রমূর্তি ধারন করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতায় এলেই শীতলকুচি কাণ্ডের শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। আর এদিন তিনি শীতলকুচি কাণ্ডের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শীতলকুচি কাণ্ডে তো এফআইআর হয়ে গেছে। এখন কী হবে। ফেঁসে গেছে তো, যাঁদের ফাঁসার ছিল। যে ইউনিট গুলি চালিয়েছে, তাঁরা তো ফেঁসে গেল। এবার?’ প্রসঙ্গত, শীতলকুচির ঘটনার আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ভোট দিতে আটকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করতে হবে। আর সেই কারণে প্রথম নির্বাচন কমিশনের নোটিশ ও পরে ২৪ ঘণ্টার জন্য মমতার নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। যদিও মমতার দাবি, তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরোধী নন। বরং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যেভাবে ব্যবহার করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এবং তাতে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে নরেন্দ্র মোদির, তিনি সেই নোংরা রাজনীতির বিরোধী।

পাশাপাশি এদিন তিনি তোপ দাগেন, ‘করোনার পরিস্থিতি নিয়ে । তার দাবী বাংলায় কোভিড ছিল না। হাজার হাজার বহিরাগতকে ডেকে এনেছে বাংলায়। ওদের প্যান্ডেল করতে লোক আসে গুজরাত আসে, রান্নার লোক আসে দিল্লি থেকে। আর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বলছে, যাও গিয়ে গন্ডগোল বাধাও। লজ্জা করে না নরেন্দ্র মোদি, কোথায় করোনা সামলাবে, তা না, বাংলা দখল করতে ছুটে আসছে।’ এদিন তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে সাধারণ মানুষের কাছে তৃণমূলের জন্য ভোট চেয়ে বলেন, মোদী তো মিথ্যেবাদী প্রধানমন্ত্রী, তাই ওকে সবাই জুমলা বলে। বিজেপি আগুন জ্বালিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে, সামলাতে হচ্ছে আমাকে। আমরা সব কাজ করেছি বলেই, ভোট চাইছি।’ রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি রাজ্যের কোভিড নিয়ে চিন্তিত। আমার মন হাসপাতালে পড়ে আছে। কিন্তু কেন্দ্র আগে থেকে ভ্যাকসিন, ওষুধ দিলে এত বাড়ত না।’

পাশাপাশি তৃণমূল সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কী করবে তার হিসেবও এদিন দেন মমতা । প্রতিটি জনসভাতেই তিনি যে ভাবে প্রতিশ্রুতি দেন, এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবারের সভা থেকে বলেন রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়লে তাঁর সরকার কী কাজ করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২৫০ মাদ্রাসাকে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে । বছরে ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। দ্বিগুণ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। মহিলাদের হাতখরচের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে আর এসসি/এসটি মহিলাদের জন্য মাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়াও যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চায় কিন্তু অর্থাভাবে যেতে পারে না, যাদের বাবা, মায়েরা এডুকেশন লোন নিতে পারেন না, তেমন পড়ুয়াদের জন্য ১০ লক্ষ টাকার ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। ৪% সুদের হারে এই টাকার জামিনদার থাকবে রাজ্য সরকার।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে