তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিডিও-র কাছে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাই ।

0
9

তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাই কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর এবং জব কার্ড করে দেওয়ার জন্য কাটমানি নিচ্ছেন ওই সদস্য। না দিতে পারলে লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার তুলসিহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পশ্চিম রারিয়াল গ্রামে। পশ্চিম রারিয়াল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য প্রকাশ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তুলেছেন ওই গ্রামেরই তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। এই মর্মে মঙ্গলবার কর্মী-সমর্থকরা হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক অফিসে যান। বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রকাশ দাসের বিরুদ্ধে। ব্লক গেটের সামনে ন্যায়ের দাবিতে অভিযুক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রদর্শনও করেন।তাদের অভিযোগ প্রকাশ দাস প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার লিস্টে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য জিও টকিং এর সময় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে কাটমানি নেন।এই মুহূর্তে আবার জব কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫ হাজার টাকা করে চায়ছেন।যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের নাম বাদ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এদিকে যারা খুব গরীব, ঘরের দরকার কিন্তু‌ কাটমানি দিতে পারেন নি তাদের নাম লিস্টে নেই। আবার একই পরিবারের চার থেকে পাঁচজন সদস্যের নামে ঘর এসেছে। এমনি দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে সদস্য প্রকাশ দাসের বিরুদ্ধে। যারা অভিযোগ জানিয়েছেন তাদের দাবি সঠিক ভাবে তদন্ত করা হোক।তদন্ত করে যাদের প্রকৃত  তাদের যাতে লিস্টে নাম থাকে।এদিকে এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

অমিত কুমার সাহা নামে এক অভিযোগকারি বলেন,”প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর এর জন্য কাটমানি নিয়েছে।জব কার্ডের জন্য আবার চাইছে।যাদের প্রকৃত দরকার তারা সুবিধা পাচ্ছে না।আবার যারা কাটমানি দিয়েছে তাদের একই পরিবারের সব সদস্যের নামেই ঘর চলে এসেছে।এটাই আমাদের অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

 অন্যদিকে আরেক অভিযোগকারী পায়েল খাতুন বলেন,”পঞ্চায়েত সদস্য প্রকাশ দাস ঘর এবং জব কার্ডের জন্য কাটমানি নিচ্ছে।যারা দিতে পারে নি লিস্টে তাদের নাম থাকছে না।এর বিরুদ্ধে আমরা বিডিওর কাছে অভিযোগ জানাতে এসেছি।আমাদের বাড়ি নেই ঠিকঠাক থাকার ঘর নেই কিন্তু আমরা টাকা দিতে পারি নি তাই লিস্ট থেকে আমাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।এদিকে যাদের দরকার নেই যাদের বাড়ি আছে যারা চাকুরিজিবি তাদের নামে ঘর চলে এসেছে।আমরা চাই এর সঠিক তদন্ত হোক এবং এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এদিকে যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সেই প্রকাশ দাস অভিযোগ অস্বীকার করেন।তিনি বলেন,”এই সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।গ্রামের মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে।যে কয়েকজন এই সব অভিযোগ করেছে তারা চক্রান্ত করে করেছে।আমি কাটমানি নি না বলেই তাদের রাগ।”

এদিকে এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।বিজেপির জেলা সম্পাদক কিষান কেডিয়া বলেন,”তৃণমূলের লোকেরাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছেন।তৃণমূল যে কাটমানির সরকার তা ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে পারবে।তারপর মানুষ আমাদের ক্ষমতায় আনবে।”

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মানিক দাস বলেন,”সংবাদমাধ্যমের থেকে বিষয়টি জানলাম।অঞ্চল নেতৃত্বের কাছে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।অভিযোগ প্রমাণ হলে দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক বিডিও অনির্বাণ বসু জানান অভিযোগ পেয়েছি, খতিয়ে দেখা হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি খোদ বারবার বলেছেন যাতে সরকারি প্রকল্পের জন্য কোন জন-প্রতিনিধি মানুষের কাছ থেকে টাকা না নেয়।তবুও পঞ্চায়েত স্তরে এই ধরনের কাটমানির ঘটনা বারবার সামনে আসে।দেখা যায় যাদের প্রকৃত দরকার তারাই বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি প্রকল্প থেকে।প্রশাসনের উচিত এই ধরনের অভিযোগ সঠিক ভাবে খতিয়ে দেখা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে