মাথাভাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু ৪ যুবকের, আত্মরক্ষার্থেই চালাতে হয় গুলি পালটা দাবি বাহিনীর ।

0
4

চতুর্থ দফার ভোটের দিন সকাল থেকেই উত্তেজনা রয়েছে কোচবিহারে। শীতলকুচির পর এবার উত্তেজনা মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের জোড়পাটকিতে। অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৪ যুবকের। তৃণমূলের দাবি ওই চারজনই তাঁদের সমর্থক। অন্যদিকে বাহিনীর দাবি, হঠাৎই ৩০০-৪০০ লোক ঘিরে ধরে। দু-পক্ষের ঝামেলা থামাতে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১ জনের। বাকি ৩ জনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওযা হয়। সেখানেই তাঁদের মৃত্যু হয় বলে খবর। সূত্রের খবর, মৃত ওই ৪ ব্যক্তিদের নাম হামিদুল হক, হামিনুল হক, মনিরুল হক, নূর আলম। অন্যদিকে ভোটের দিনকয়েক আগে থেকেই উত্তপ্ত হয়েছিল উত্তরবঙ্গ । বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়িতে হামলার পর থেকে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল । আর ভোটের দিন সকাল থেকে জোড়পাটকি এলাকা উত্তপ্ত হতে শুরু করে। মৃতদের পরিবারের দাবি, দু’পক্ষের ঝামেলার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চার জনের । প্রসঙ্গত, ভোট প্রচারে বারবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআরপিএফ সাধারণ মানুষকে বাধা দিচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে, এমনকী বিজেপিকে ভোট দিতে জোর করছে বলেও অভিযোগ তোলেন মমতা। এরপর মহিলাদের উদ্দেশে তিনি নির্দেশ দেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ভয় দেখালে তাঁদের ঘেরাও করুন। মমতার সেই বার্তার পর তাঁকে নোটিশও পাঠায় নির্বাচন কমিশন। আর এরপরই মাথাভাঙ্গায় ঘটল এমন মর্মান্তিক ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকার ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। সেই সময়ই হঠাৎই একটি ছেলেকে মারধর করতে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপরই এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখনই গুলি চালায় বাহিনী। আর তাতেই মৃত্যু হয় চারজনের। কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিকল্পনা করেই গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে, অন্য একটা অংশের দাবি, বুথের সামনে অযাচিত জমায়েত করা হচ্ছিল। তা ছত্রভঙ্গ করতেই গুলি চালাতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। ইতিমধ্যেই আমতালিয়া এসকে স্কুলের ওই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বাংলায়। মৃতদের পরিবারের দাবি, গোটা ঘটনার ভিডিও রয়েছে তাঁদের হাতে। আর সেই ভিডিও তোলার সময়ই আরও গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু চারজনই নয়, আরও বেশ কয়েকজন গুলিতে আহত হয়েছে। কমিশনের তরফেও জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে ওই চারজনের। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ফোন করেন সুদীপ জৈন। কোন পরিস্থিতিতে পুলিসকে গুলি চালাতে হল জানতে চাইলেন তিনি।
উল্লেখ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী সকাল থেকে কোচবিহারে সবমিলিয়ে ভোটের বলি ৫ জন। এ দিন সকালেই শীতলকুচিতে উত্তেজনা ছড়ায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে