“মহা বটবৃক্ষের পতন” প্রতিক্রিয়া জয় গোস্বামীর, “মাথার ওপর ছাদ সরে গেল” প্রতিক্রিয়া শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ।

0
20

বুধবার কবি শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জয় গোস্বামী বলেন, “এক মহা বটবৃক্ষের পতন হল । তিনি ছিলেন তরুণ কবি, লেখকদের মাথার উপর পিতা ও অভিভাবকসম । পাশাপাশি তিনি ছিলেন জাতির বিবেক । জয় গোস্বামী আরও জানান, শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে তার ৪৫ বছরের যোগাযোগ ছিল । তাই আজ তিনি একদিকে যেমন শোকগ্রস্ত তেমনই অসহায় বোধ করছেন । তার আরও দাবী বাংলা সাহিত্য জগৎ যে কি হারাল, সেটা বাংলা সাহিত্যই জানে । অন্যদিকে সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “মাথার ওপর ছাদ সরে গেল ।” তিনি বলেন, “কিছুদিন আগেই ফোন করেছিলাম । শঙ্খদা ফোন ধরতেন না, মেয়ে ধরেছিল । শঙ্খদা কেমন আছেন জানতে চাওয়ায় বলেছিল ভালো । শঙ্খদার শরীর বিকল হলেও এই বয়সেও তাঁর স্মৃতি ও মনোবল সতেজ ছিল ।” এদিন শঙ্খ ঘোষের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, বহুদিন ধরে শঙ্খদাকে দেখছি কখনও মেজাজ গরম করেন নি । তিনি ছিলেন মৃদুভাষী । জীবনে এত পুরস্কার পেলেও তাঁকে কখনও অহঙ্কার স্পর্শ করেনি ।” এদিন কবির প্রয়াণে নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু বলেন, একটা যুগের অবসান হল । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শঙ্খ ঘোষের ছাত্র ছিলেন তিনি । এদিন নিজের শিক্ষক সম্পর্কে বলতে গিয়ে ব্রাত্য বসু বলেন, শান্ত কণ্ঠস্বর ও মৃদু ভাষণ ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব । তাঁর কবিতার মধ্যে দিয়ে কৈশোর, যৌবন কাটানো ব্রাত্য বসু এদিন বলেন, তিনি(শঙ্খ ঘোষ) আমাদের মধ্যে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন । পাশাপাশি নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন বলেন, “বিরাট বড় ক্ষতি হল । শঙ্খবাবুর চলে যাওয়াটা আক্ষরিক অর্থেই অপূরণীয় ক্ষতি । এমনকি কবির জন্যই তারা রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার সাহস পেয়েছেন । তার দাবী শঙ্খ ঘোষ না থাকলে তাদের এই চৈতন্য কখনই হত না যে কোনও রাজনৈতিক দলের দালালি করব না । যে কোনও শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য চোখ বন্ধ করে যাঁর কথা মনে আসে, তিনি হলেন শঙ্খ ঘোষ ।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে