বাংলা নববর্ষে সংকল্প নিন, সব বুথে পদ্ম ফুটিয়ে দিদির কুশাসন থেকে বাংলাকে মুক্তি দিতে দিদির বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হবে – কল্যাণীর সভায় মোদী ।

0
15

এবার বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে। আসল পরিবর্তন চলছে ভোটদান। আসল পরিবর্তন মানে বাংলার উন্নয়ন। আসল পরিবর্তন মানে দিদির কুশাসন থেকে মুক্তি। দিদির সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি। বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, বড় ব্যবধানে জিতছে কল্যাণী। শিল্প, শ্রম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংস্কার সব ক্ষেত্রেই প্রেরণা দিয়েছে কল্যাণী । দিদি ১০ বছর যেভাবে বাংলায় সরকার চালিয়েছেন, সব ঐতিহ্যের অপমান করেছেন। নিজেদের রাজনৈতিক হিতে বাংলার মানুষের হত্যা করেছেন। দিদি অহংকারী হয়ে গিয়েছেন। সব খেলা উনিই শুরু করেন। শেষও উনি করেন। তাই উনি বলছেন, খেলা হবে। কিন্তু, দিদি ও দিদি… আদরণীয় দিদি… এটা ভুলবেন না এটা গণতন্ত্র। এটা জনতা-জনার্দন ঈশ্বরের রূপ। এখানে খেলাও জনতাই শুরু করেন। খেলা শেষও জনতা-জনার্দনই করে। আজকের বাংলার সত্যি এটাই, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে দিদি। অর্ধেক নির্বাচনে তৃণমূল পুরো সাফ। দুদিন পরে বাংলা নববর্ষ। পয়লা বৈশাখ থেকে বাংলার ক্ষমতা থেকে দিদির বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হচ্ছে। ২ মে দিদি যাচ্ছে। বিজেপি আসছে। দিদির কুশাসন থেকে বাংলাকে মুক্তি দিতে হবে। এটা সম্ভব আপনাদের একটা ভোটে। বাংলা নববর্ষে সংকল্প নিন, সব বুথে পদ্ম ফোটাবেন। মা কালীর ভূমিতে খারাপের পরাজয় হোক। ভারত মাতা কি জয়। তৃণমূলের কাছে উন্নয়ন হল ক্যাডারদের হিত। তৃণমূলের কাছে শিল্প মাফিয়া, মানবপাচার, বোমা তৈরি, সতীমাতা পীঠের পবিত্রস্থানের জমিও ছাড়েনি। এটাই দিদির রিপোর্ট কার্ড। দিদির এই দুর্নীতির কারণে বিধানচন্দ্র রায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন সফল হয়নি। আধুনিক বাংলার মডেল করতে চেয়েছিলেন। সেটা হয়নি। কল্যাণীকে দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের থিম করেছেন দিদি। পঞ্চায়েত ও পুরসভা হয়ে উঠেছে তৃণমূলের দফতর। হারের ভয়ে পুরভোট করাননি। এখানকার অবস্থার আমার চেয়ে বেশি আপনারা জানেন। সব কিছুর জন্যেই এখানে কাটমানি লাগে। আপনাদের ঘরে পানীয় জল আসেনি কারণ জল মাফিয়াদের চাপ। অবৈধ নির্মাণে বাধা দেওয়া হয় না। এটা শুধু কল্যাণী নয়, গোটা রাজ্যেই এক পরিস্থিতি। ডবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকার স্থিতি বদলাবে। আমরা কল্যাণী শিল্পশহরকে পুনর্নির্মাণ করব। আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলব। কল্যাণী শিল্পক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। তার রোডম্যাপ রয়েছে বিজেপির ইস্তাহারে। আত্মনির্ভর ভারতের সেন্টার হবে কল্যাণী। আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। মেট্রো ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টকে আধুনিক করেছি। কল্যাণীতেও মেট্রো চলবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের হাবের জন্য পদক্ষেপ করা হবে। আপনাদের এইমসের দাবি পূরণ হতে চলেছে। প্রথমবার এইমস পেয়েছে কল্যাণী। এইমসের সঙ্গে কল্যাণী স্টেশনকে সংযোগ করতে পারেননি দিদি। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকার বিমা চালু করতে দেননি দিদি। গরিব মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাওয়া উচিত তো? দিল্লি বা আমদাবাদ গিয়ে গরিব মানুষ অসুস্থ হলে ৫ লক্ষ টাকার খরচ করবে দিল্লির বিজেপি সরকার।মহিলাদের উন্নয়নে দেশের বাকি অংশে যে প্রকল্পগুলি চলছে, সেগুলিতে বাধা দিয়েছেন দিদি। দিদি ও দিদি.. এটা ডিজিটাল ইন্ডিয়া। এটা একবিংশ শতকের ভারত। বিজেপি সরকারের সৌজন্যে গ্রামে গ্রামে সস্তায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট চলে গিয়েছে। আপনার মিথ্যা ধরে ফেলেন বাংলার মহিলারা। বাংলার মহিলারা জানেন, শৌচালয়, বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ, জনধন অ্যাকাউন্ট, লক্ষাধিক ঘর, মুদ্রা যোজনা, সমবেতনের অধিকার, গর্ভাবস্থায় সবেতন ২৬ সপ্তাহের ছুটি। মুসলিম বোনেদের তিন তালাকের পীড়া থেকে মুক্তি দিয়েছে। কিছুই আর গোপন নেই। এসসি, এসটিরা বিজেপিকে সমর্থন করে বলে অপমান করছেন দিদি! বাংলার আদিবাসী, ওবিসি, বনবাসীদের দিদি হুমকি দিচ্ছেন আপনি। দিদি লিখে নিন, মোদীর জন্য তাঁদের স্নেহ কখনও কমবে না। দিদি ও দিদি, আদরণীয় দিদি, আপনার সঙ্গীরা বাংলার তপশিলি জাতি উপজাতিদের অপমান করতে পারে। কিন্তু বিজেপির জন্য তাঁদের সম্মান সর্বোপরি। পরাজয় বুঝতে পেরে দিদির নতুন রণনীতি। তপশিলি জাতি-উপজাতিদের বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। তাঁদের হয়ে ছাপ্পা ভোট দেবে তৃণমূল। প্রকাশ্যে বলছেন,কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করতে বলছেন। কোচবিহারে ছাপ্পা ভোটের মাস্টার প্ল্যানের অংশ ছিল। কান খুলে শুনুন দিদি। ভোটদাতাদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবেন না। নির্বাচনে হার-জিত থাকে। এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু, দেশের সংবিধান, বাবা সাহেব আম্বেদকর ও হরিজন ঠাকুরের ভাবনায় আঘাত দেওয়ার অধিকার নেই আপনার। তোষণের পট্টি চোখে বেঁধে রেখেছেন আপনারা। বাংলার গরিমা ও ঐতিহ্য আপনার স্বার্থের রাজনীতির থেকে অনেক বড়। শ্রী শ্রী হরিজন ঠাকুরের কর্মভূমি বনগাঁ বেশি দূর নয়। কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ গিয়েছিল ওড়াকান্দির পবিত্রভূমিতে চরণস্পর্শ করার সৌভাগ্য পেয়েছি। সেখানে মতুয়া সমাজের এক বন্ধু বললেন, আমিই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেখানে গিয়েছি। আমি তাঁকে বলেছি, হরিজন ঠাকুরের ইচ্ছা ছাড়া এটা হতে পারে না। এ তো আমার সৌভাগ্য যে তাঁদের দর্শনের সুযোগ পেয়েছি। দলিত, শোষিত ও বঞ্চিতদের সম্মানের জীবন দিয়েছেন তাঁরা। আপনাদের সেবার জন্য ওড়াকান্দি থেকে নতুন প্রেরণা নিয়ে এসেছি। কিন্তু অবাক হয়ে যাচ্ছি, আমার ওড়াকান্দি সফর পছন্দ করছেন না দিদি। ওড়াকান্দি গিয়ে ভুল করেছি? হরিজন ঠাকুরের ভূমিতে গিয়ে ভুল করেছি? সেখানকার মাটি মাথায় লাগানো ভুল ছিল কি? কিন্তু দিদি এখানেও প্রশ্ন তুলছেন। ১০ বছর ধরে বাংলার শোষিত, বঞ্চিতদের জন্য আপনি কিছু করেননি। মতুয়া বা নমশূদ্রদের জন্য কিচ্ছু করেননি। একপ্রকার আপনি এদের অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আপনার তোষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এরা। এসসি সার্টিফিকেটের জন্যেও কাটমানি দিতে হয়েছে। এটা আপনার কাছে প্রত্যাশা ছিল না দিদির। ভারত মায়ের উপরে আস্থা রাখা সমস্ত শরণার্থীদের সব সুবিধা দেওয়া হবে। মতুয়া ও নমশূদ্রদের ন্যায়বিচার আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চেষ্টায় এই জায়গা ভারতের কাছে রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে