নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েই বিরোধী নেতা হিসেবে আমাকে মানতে চান না মাননীয়া’ তোপ শুভেন্দুর

0
22

শুক্রবার কলাইকুণ্ডার বৈঠকে যে ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে তার প্রতিবাদ করার মতো কোনও ভাষা নেই।” শনিবার বিরোধী দলনেতা হিসেবে সাংবাদিক বৈঠকে করে বললেন শুভেন্দু অধিকারী । তিনি এও বলেন নন্দীগ্রামে পরাজয়ের কারণেই তাঁকে বিরোধী দল নেতা হিসেবে মানতে পারছেন না মমতা। তাই দিঘার বৈঠকের অজুহাতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুর্যোগের পরে বাংলায় এসেছেন। আকাশ পথে পরিদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে কলাইকুন্ডায় একটি পর্যালোচনা বৈঠক করতে চেয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কী ভাবে মানুষের সুবিধা করা যায় তার পরিকল্পনা করতে তিনি এসেছিলেন। ২০১৯ সালে ফণী ঘূর্ণিঝড়ের পরে এবং ২০২০ সালে আমপানের পরেও বসিরহাটে আসেন। প্রথমে ১০ হাজার ও পরে ২,৭৫০ কোটি টাকা সাহায্য করেছিলেন।” এই পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে কার্যত প্রধানমন্ত্রীকে মমতা অপমান করেছেন বলেও এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে বলেন শুভেন্দু।প্রসঙ্গত, কলাইকুন্ডার বৈঠকে হাজির ছিলেন তিনি। তাঁর উপস্থিতি প্রসঙ্গে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, মমতা জানেন না ওড়িশার বিরোধী দলনেতা প্রতিম নায়েককেও এই পর্যালোচনা বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। মমতা বৈঠকের নির্ঘন্ট জানানো হয়নি বলে যে অভিযোগ তুলেছেন তা খণ্ডন করে এদিন শুভেন্দু দাবি করেন, “মমতা অসত্য বলছেন।”ইয়াস পরবর্তী মোদি-মমতা সাক্ষাৎ বিতর্কের মধ্যেই শনিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইয়াস বিপর্যয় নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত না থাকা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান শুভেন্দু। প্রসঙ্গত, কলাইকুন্ডার বৈঠকে হাজির ছিলেন তিনি।ভোটের পর থেকে বিজেপি কর্মীদের উপরে আক্রমণ চলছে। ভোটারদের উপরেও অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, “আজই ডায়মন্ড হারবারে একটি বুথ এলাকার বিজেপি সভাপতিকে খুন করা হয়েছে। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এটা করেছে। পুলিশ নিষ্ক্রিয়। এ নিয়ে ৩৬ জন বিজেপি কর্মী, সমর্থকের ভোট পরবর্তী সময়ে মৃত্যু হয়েছে।”তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ঘিরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। ওড়িশার বালাসোরে বেশি ক্ষতি হলেও এই রাজ্যের দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। মানুষের অর্থকরী ক্ষতিও হয়েছে। বিশেষ করে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ক্ষতি হয়েছে। তবে বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা দায়িত্বশীল থাকবেন বলেও এদিন আশ্বাস দেন শুভেন্দু।এদিন আলাপন প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঙালি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর জন্য শুক্রবার গোটা বাংলা লজ্জার কারণ তৈরি হয়েছে দেশের কাছে। এই রাজ্যের আমলারা অসহায় অবস্থায় কাজ করছেন। আপনি যে ভাবে প্রশাসনকে চালাচ্ছেন সেটা ঠিক নয়। তবে বিরোধী হিসেবে আমরা ন্যায়নিষ্ঠ থাকব। ফিস ফ্রাই খাইয়ে বিরোধীদের ম্যানেজ করেছেন এতদিন, এবার আর সেটা হবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে