কয়লা, গরু পাচার সহ বিভিন্ন দুর্নীতির ৯০০ কোটি টাকা গেছে অভিষেকের অ্যাকাউন্টে সাংবাদিক বৈঠকে বিষ্ফোরক শুভেন্দু ।

0
17

যুব তৃণমূল নেতা বিনয় মিশ্রের আত্মীয় বাঁকুড়া থানার আইসি অশোক মিশ্র ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরই কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে সরাসরি অভিষেক ব্যানার্জি ও মমতা ব্যানার্জিকে আক্রমণ শানালেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী । এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বাবু বলেন, লালা ওরফে অনুপ মাজি এই চক্র চালাত । পাশাপাশি তিনি বলেন, বারুইপুরের সভা থেকেই তিনি প্রমাণ তুলে ধরে বলেছিলেন কিভাবে থাইল্যান্ডের একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু তখন তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছিল এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত । এখন গনেশ বাগারিয়া ও বিনয় মিশ্রের কথোপকথনের অডিও টেপ প্রকাশ্যে আসার পর তার অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হল । এদিন শুভেন্দু আরও বলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তৃণমূল তথা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যানার্জি পরিবার সরকারি মদতে যে সবথেকে বড় দুর্নীতি করেছে তার পর্দা ফাঁস হল । তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা দলের সেকন্ড ইন কমান্ড ‘ভাইপো’ অভিষেক ব্যানার্জির কাছে সরাসরি ৯০০ কোটি টাকা পৌঁছে দিয়েছে এই চক্র । তার দাবী বাংলার স্বার্থে এই চক্রের ইতি টানা দরকার । তিনি বলেন, যখনই বিনয় মিশ্র প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় তখনই তা এড়িয়ে যান তৃণমূল নেতারা । শুভেন্দুর আরও দাবী এই দুর্নীতি শুরু হয়ে ছিল ২০১২-১৩ সাল থেকে । এমনকি সেই সময় তাকে আটকানোর জন্য অভিষেকের নেতৃত্বে যুবা সংগঠন করা হয় । বিনয় মিশ্রকে ২০১৩ সালে তৃণমূল যুবার রাজ্যের ভাইস প্রেসিডেন্ট করে অভিষেক । বিনয় মিশ্র এই মুহূর্তে ফেরার হলেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তার ভাই বিকাশ মিশ্র এবং আগেই গ্রেফতার হয়েছেন গনেশ বাগারিয়া । এমনকি এদিন দিল্লিতে কয়লা পাচার, বালি পাচার, গরু পাচার কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয় বিনয় মিশ্রের আত্মীয় বাঁকুড়া থানার আইসি অশোক মিশ্রকে । এই সমস্ত টাকা কোথায় কিভাবে পৌঁছানো হত সেকথা জানাতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, অশোক মিশ্র নিজে পুলিসের গাড়ি করে শান্তিনিকেতনে টাকা পৌঁছে দিত । এমনকি যে এজেন্সি (PK-র IPAC) গত দেড় বছরে তৃণমূলের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তার টাকাও একইভাবে দেওয়া হয়েছে বলেও এদিন তিনি জানান । পাশাপাশি এরও তদন্ত করা হোক বলে এদিন দাবি করেন শুভেন্দু । তার আরও দাবী মুখ্যমন্ত্রী কিছুতেই এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না । অন্যদিকে এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, আগে মুখ্যমন্ত্রী যতদিন দিদি ছিলেন ততদিন দলের সমস্ত সিনিয়র নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন । কিন্তু তিনি দিদি থেকে পিসি হওয়া মাত্রই এই সমস্ত দুর্নীতি শুরু হয় । তখনই তিনি একা পোস্ট হয়ে অন্য সকল নেতাদের ল্যাম্পপোস্টে পরিণত করেন । সেই জন্যই আজ তারা দল ছেড়েছেন ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে