এক পায়ে বাংলা জয় করব, আর আগামীদিনে দু’টো পায়ে দিল্লি জয় করব – মমতা ।

0
46

সোমবার হুগলিতে চুঁচুড়ার সভা দিয়েই এদিনের প্রচার শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । এদিন চুঁচুড়ার জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইলেকশনের আগে বিজেপি তার পায়ে ইচ্ছে করে চোট করে দিয়েছিল যাতে তিনি ইলেকশনে বেরোতে না পারেন । তার দাবী একটা পা ভাঙা তো কী হবে, বাংলার মা, বোনেদের তো দুটো করে পা আছে । সেই একটা পায়েই ২০২১য়ে বাংলা জয় করবেন আর আগামীদিনে দু’টো পায়ে দিল্লি জয় করবেন । এবারে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে বহু জায়গায় অসন্তোষকে হাতিয়ার করে হিসাবে ব্যাবহার করে মমতা কটাক্ষ করে বলেন, এরা এমপি হবে, এমএলএ হবে, কাউন্সিলর হবে, গ্রামসভার সদস্য হবে । তাই এরাই ভাত, মাছ, মাংস, দুধভাত, দই, বিরিয়ানি, তরকা সমস্ত কিছু খাবে । আর অন্য মানুষ কেউ কিছু খাবে না । তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, বিজেপি যদি এতই ভালো দল হয়, তাহলে স্থানীয় প্রার্থী খুঁজে পেলো না কেন । তিনি এদিন আরও বলেন, লকেট টাকার জন্যে প্রার্থী হয়েছে । প্রথমে সাংসদ নির্বাচনে কলকাতা থেকে এসে দাঁড়িয়েছিল । এবার বিধানসভা ভোটেও দাঁড়িয়ে গেল । আগামীদিনে বিধায়ক হয়ে গেলে লকেট সাংসদ পদ ছাড়বে তো বলেও এদিন তিনি প্রশ্ন তোলেন । তার আরও দাবী বিজেপির কোনও স্থানীয় প্রার্থী নেই । সিপিএম বা তৃণমূল থেকে ধার করে প্রার্থী করছে । বিজেপিতে দাঁড়ানো মানে টাকা ইনকাম । বড় পাইপে যেমন জল ছাড়া হয় তেমনই বিজেপি টাকা ছড়াচ্ছে । লকেটও টাকার জন্যে দাঁড়িয়েছে । এদিন তিনি আবারও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, যেখানে বিনা পয়সায় খাদ্য দেওয়া হচ্ছে সেখানে গ্যাসের দাম সাড়ে ৯০০ টাকা । ডানলপ এখনও রাজ্য সরকার কেন্দ্রের অনুমতি না পাওয়ায় অধিগ্রহণ করতে পারে নি বলে জানানোর পাশাপাশি বলেন, জেশপ বন্ধ, রেল, ব্যাঙ্ক সব বেসরকারি করতে চাইছে কেন্দ্র । ব্যাঙ্কে সুদের হার কমিয়ে দিচ্ছে, এরপর বলবে ব্যাঙ্ক বন্ধ ।

এদিন তিনি হুমকির সুরে আবারও বলেন, গুজরাটিরা বাংলা শাসন করবে না । বাংলাই বাংলা শাসন করবে । অন্যদিকে বিভিন্ন জনসভায় নরেন্দ্র মোদীর ‘দিদি…ও দিদিইই’ শব্দবন্ধ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের আপত্তি তোলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এরা বলে বাঙালিদের বড্ড অহংকার । তাই এরা বাঙালির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাইছে। এদিন তিনি তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিনেত্রী সায়ন্তিকার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, এরা রোজ আমাকে ভ্যাঙায় । যত ভ্যাঙাবে তত এদের জিভ ক্ষয়ে যাবে । তাই এদের ভ্যাঙাতে দিন, গালাগালি দিতে দিন । পাশাপাশি তিনি বলেন, তিনি জানেন তিনি কি, তাছাড়া এই বাংলার ভাই, মা, বোনেরা তাকে যেভাবে ভালোবাসে তাই তিনি তাদের কথায় কিছু মনে করেন না । অপরদিকে শুকমায় জওয়ানদের মারা যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এরা দেশ শাসন করছে না । দিল্লিতে দাঙ্গা করে, শুকমায় জওয়ানদের মারে, পুলওয়ামায় জওয়ানদের মারে । আর শুধু ইলেকশান করবে বলে, বাংলা দখল করবে বলে টাকার ভাণ্ডার নিয়ে সবকটা বসে আছে । কাটমানি খাওয়া নিয়ে চুঁচুড়া বিধানসভার বিগত দুইবারের বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী অসিত মজুমদারকে মমতা ব্যানার্জির ধমক দেওয়ার ভিডিও এখন স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল । তাছাড়া পার্শ্ববর্তী সপ্তগ্রাম, ধনিয়াখালি বিধানসভার বিগত দুইবারের বিধায়ক তথা মন্ত্রী ও এবারের তৃণমূল প্রার্থী যথাক্রমে তপন দাশগুপ্ত এবং অসিমা পাত্রের বিরুদ্ধেও এলাকায় প্রচুর অভিযোগ রয়েছে । এদিন সেই নিয়েও কর্মী সমর্থকদের রাগ ঠান্ডা করতে গিয়ে মমতা বলেন, অসিত, তপন, অসীমাদের ক্ষমা করে দিয়ে ভোটটা দেবেন । পাশাপাশি বলাগড়ের বিগত দুইবারের বিধায়ককে এবারে প্রার্থী না করে বহিরাগত প্রার্থী দাঁড় করানো নিয়েও সেখানকার কর্মী সমর্থকদের রাগ ঠান্ডা করতে তিনি বলেন, এবারের বলাগড়ের প্রার্থী হিসাবে যাকে দাঁড় করিয়েছেন সেই মনোরঞ্জন বারিক । যিনি দলিত সাহিত্য একাডেমির চেয়ারম্যান । এক সময় রান্না করতেন । তিনি(মমতা) এটা জানতে পারার পর তাকে তুলে এনে একটা কাজ দিয়েছেন । এদিন তিনি আবারও বলেন, তিনি যেখানেই দাঁড়ান না কেন তিনি জিতবেনই । কারণ মানুষ তাকে ভোট দেবে । পাশাপাশি তার দাবী তিনি শুধু একা জিতে তো লাভ নেই, তাই তার দলের অন্যান্য প্রার্থীদেরও জেতাতে হবে । অন্যদিকে এদিন চুঁচুড়ার পর হুগলির চণ্ডীতলাতেও বিগত দুইবারের বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী স্বাতী খন্দকারের হয়ে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবারও নাম না করে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকিকে আক্রমণ করেন মমতা । তিনি এদিন বলেন, ফুরফুরা শরিফের একজন এখন বিজেপির বড় বন্ধু । তিনি এখন সিপিএম, কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ভাঙার চেষ্টা করছেন । পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ত্বহা সিদ্দিকিকে অনেকদিন ধরেই চিনি । কিন্তু বিজেপির টাকা নিয়ে ওদের পরিবার থেকে একটা গদ্দার বেরিয়েছে । তিনি আরও বলেন, বাংলায় গদ্দারি করা চলবে না । পাশাপাশি এদিন তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তার বিশ্বাস সংখ্যালঘু ভোট কোনও ভাবেই ভাগ হবে না । বরং তৃণমূলেই পড়বে ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে